সাইরেনের তীব্র শব্দ শোনা মানেই কোথাও বিপদ। আগুন, ধোঁয়া আর আতঙ্কের সেই মুহূর্তে যখন সবাই নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে, তখন কিছু মানুষ ঠিক উল্টো পথে হাঁটে, বিপদের দিকেই ছুটে যায়। এই সাহসী মানুষগুলোর প্রতি সম্মান জানাতেই প্রতি বছর ৪ মে পালিত হয় আন্তর্জাতিক অগ্নিনির্বাপক দিবস।
দিনটির পেছনে রয়েছে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি। ১৯৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ এক দাবানলে পাঁচজন অগ্নিনির্বাপক প্রাণ হারান। সেই ঘটনার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালন শুরু হয়, যাতে তাদের আত্মত্যাগ ভুলে না যায় মানুষ।
অগ্নিনির্বাপকরা শুধু আগুন নেভান না, তারা উদ্ধার করেন দুর্ঘটনায় আটকে পড়া মানুষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত পরিবার, এমনকি কখনো কখনো প্রাণীদেরও। তাদের কাজের ধরন এমন যে প্রতিটি মুহূর্তে জীবন ঝুঁকির মুখে থাকে। তবুও দায়িত্ব থেকে একচুলও সরে দাঁড়ান না তারা।
বাংলাদেশেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা প্রতিদিন নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তাদের উপস্থিতি এখন অপরিহার্য। অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধস, সড়ক দুর্ঘটনা, সবখানেই তাদের দ্রুত উপস্থিতি অনেক প্রাণ বাঁচায়।
তবে বাস্তবতা হলো, এখনও অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অগ্নিনির্বাপক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
আন্তর্জাতিক অগ্নিনির্বাপক দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মনে করিয়ে দেয়, বিপদের মুহূর্তে যারা আমাদের রক্ষা করেন, তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
আগুনের শিখা নেভানোর পাশাপাশি তারা জ্বালিয়ে রাখেন মানবতার আলো, এই দিনটি সেই আলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোরই একটি সুযোগ।