দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তরুণ প্রজন্মকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতায় প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, নতুন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারের ফলে প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সবসময় যথেষ্ট নয়।
বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘২০২৬- ডিফরেন্ট কনটেক্সটস, কমন অ্যাসপিরেশনস’ প্রতিপাদ্যে এবারের আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি মানবজাতির জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এর কারণে এমন কিছু সংকট ও চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে, যার অনেকটাই আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। প্রযুক্তি ও জ্ঞানের পরিবর্তনের গতি এত বেশি যে ভবিষ্যতের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতা কী হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জ্ঞানকে আর স্থির কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন তথ্য ও প্রযুক্তির সঙ্গে এর প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তরুণদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই নতুন প্রজন্মকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করার পাশাপাশি তাদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পুরোনো চ্যালেঞ্জের সঙ্গে এখন প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সংকটও যুক্ত হয়েছে। এসব মোকাবিলায় তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, তরুণদের জন্য নতুন জ্ঞান অর্জন ও দক্ষতা তৈরির এই প্রক্রিয়াকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ ক্ষেত্রে তরুণদের কেন্দ্রে রেখে কাজ করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তরুণদের সক্ষমতার প্রতি সরকারের আস্থা রয়েছে। খেলাধুলার প্রসার, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের বিকাশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিদেশি অতিথি, ফরেন সার্ভিস একাডেমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার যুব প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।