আকাশভাঙা বৃষ্টি আর উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড জনজীবন। টানা ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকা যখন জলাবদ্ধতায় স্থবির, ঠিক তখনই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে প্রশাসন। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির ফলে বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঢাকার চিরচেনা রূপ পাল্টে গেছে। মিরপুর, মোড়লগঞ্জ, শান্তিনগর থেকে শুরু করে ধানমণ্ডির নিচু এলাকাগুলোতে এখন থৈ থৈ পানি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বৃষ্টির পানি সরতে দীর্ঘ সময় লাগছে, যা নগরবাসীর যাতায়াতকে নরক যন্ত্রণায় পরিণত করেছে। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রিকশা বা সিএনজিতে বাড়তি ভাড়ার চাপে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে ইতিমধ্যে সতর্কতা সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। নেত্রকোনার সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানিও হু হু করে বাড়ছে। নিচু এলাকার কৃষকরা তাদের বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেকের পাকা ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে, যা তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে দুর্গত এলাকাগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বাঁধ তদারকিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাহাড়ী ঢল ও বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হাওর এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।