দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আবহে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী প্রাথমিক বৈঠকে অংশ নেয় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল। মার্কিন প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স; তার সঙ্গে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অপরদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে আরও যোগাযোগের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।।
আলোচনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ইরান দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং সেই কারণেই আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন দাবির বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল। ইরান নিজেদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অবস্থানে অনড় বলেও জানায়।
এদিকে ইসলামাবাদে যখন কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তখনও মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা থামেনি। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে নতুন করে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইসলামাবাদের এই আলোচনা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে—এই সংলাপ কি নতুন কোনো সমঝোতার পথ খুলবে, নাকি আবারও ব্যর্থ কূটনীতির তালিকায় যুক্ত হবে আরেকটি অধ্যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।