হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ইরানের বন্দরগুলোয় অবরোধ আরোপের ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, ওয়াশিংটনের এই উসকানিমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে, যা বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
গতকাল সোমবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবরোধের প্রেক্ষিতে আজ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মুখ খোলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সমুদ্রসীমায় সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে, তা কেবল উত্তেজনাকেই বাড়িয়ে তুলবে। এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং মুক্ত বাণিজ্যের নীতির পরিপন্থী।"
জিয়াকুন আরও সতর্ক করে বলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণ আগে থেকেই ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। এই সামরিক তৎপরতা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া পাহারা ও অবরোধের মধ্যেই আজ চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ ও ‘কেপলার’ নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নজরদারি এড়িয়ে চীনের একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের অবরোধের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। সাংহাই ভিত্তিক একটি কোম্পানির মালিকানাধীন এই জাহাজটি প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার ব্যারেল মেথানল বহন করছিল। বেইজিং এর মাধ্যমেই বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইরানের সঙ্গে তাদের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে প্রস্তুত নয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘এনার্জি চোকপয়েন্ট’। এই সংকটের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের বন্দর থেকে কোনো জাহাজ বের হতে বা ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে চীনের আজকের সাহসী পদক্ষেপে সেই ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা এই সংকটের সমাধানে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ পালন করতে চায়। তবে তার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ‘একতরফা সামরিক আগ্রাসন’ বন্ধ করতে হবে।