ট্রুথ সোশ্যালে ইঙ্গিতবহ পোস্ট: নেপথ্যে কী?
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অত্যন্ত প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা ব্যর্থ হয়। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রবীণ মার্কিন সাংবাদিক জন সলোমনের লেখা একটি নিবন্ধ শেয়ার করেছেন, যার শিরোনাম- ‘ইরান নতি স্বীকার না করলে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা ট্রাম্প কার্ড: নৌ-অবরোধ’।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করেও এমন একটি লেখা শেয়ার করা ট্রাম্পের সুপরিকল্পিত কৌশল। এটি তেহরানের প্রতি একটি কড়া বার্তা যে, আলোচনা টেবিলে সমাধান না এলে সমুদ্রপথ আটকে দিয়ে ইরানের অর্থনীতির টুঁটি চেপে ধরতে দ্বিধা করবেন না তিনি।
হরমুজ প্রণালি: সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু
জন সলোমনের নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-র ওপর থেকে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ না ছাড়ে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের নৌ-অবরোধের পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালিতে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
নিবন্ধে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই ‘ট্রাম্প কার্ড’ কার্যকর হলে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু ইরান নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর তীব্র প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশাল অংশকে এই অঞ্চলে মোতায়েন করে ইরানকে সমুদ্রপথে কার্যত একঘরে করে ফেলার নীলনকশা তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তাঁর চিরচেনা ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিরই একটি অংশ। তিনি মূলত ইরানকে দুটি বিকল্প দিচ্ছেন: হয় ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে শান্তি চুক্তি, না হয় সমুদ্রে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়া। তবে এই নৌ-অবরোধ বাস্তবায়ন করা অতটা সহজ হবে না। কারণ এতে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলোর স্বার্থও জড়িত রয়েছে।
ইরান অবশ্য এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের এই প্রচ্ছন্ন হুমকির কোনো পাল্টা জবাব দেয়নি। তবে অতীতে তেহরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের কোনোভাবে কোণঠাসা করা হলে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে অচল করে দেবে।
শান্তি আলোচনার টেবিলে যে মেঘ জমেছিল, ট্রাম্পের এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তাকে আরও ঘনীভূত করল। এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি সত্যিই নৌ-অবরোধের পথে হাঁটবেন নাকি এটি কেবল আলোচনার টেবিলে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক চাল?