দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর আবারও চীন সফরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেইজ অ্যান্ড্রুস ঘাঁটি থেকে বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানাবে চীন। সফরের মূল আকর্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে বৃহস্পতিবারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বৈঠকে বাণিজ্য, শুল্কনীতি, প্রযুক্তি খাত, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফরসূচিতে রয়েছে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন এবং শি জিনপিং আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ।
এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। প্রতিনিধি দলে আছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক, বোয়িংয়ের শীর্ষ নির্বাহী কেলি অর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের প্রধান ল্যারি কাল্পসহ বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। বিশ্লেষকদের মতে, সফরটি শুধু কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় গুরুত্ব বহন করছে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের শেষ বৈঠক হয়েছিল। সে সময় চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা উচ্চ শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প।
চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বেইজিং এখন আন্তর্জাতিক অস্থিরতা কমিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী।
ট্রাম্পের সফর ঘিরে বেইজিংজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে তিয়ানআনমেন স্কয়ারসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই সফর শুধু দুই নেতার সাক্ষাৎ নয়, বরং বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।