ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা দারুণভাবে শুরু করেও শেষ বিকেলে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত স্বস্তি নিয়েই দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১৫৩ রানে।
দিনের শুরুতে ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে প্রথম ঘণ্টা নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেয় দল। দারুণ খেলতে থাকা মুমিনুল অবশ্য মাত্র ১ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন। জশ হ্যাজেলউডের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯৫ বলে ৪৯ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে বড় জুটি গড়েন তানজিদ তামিম। মুমিনুলের সঙ্গে তাঁর ১০৩ রানের জুটির পর শান্তর সঙ্গে যোগ করেন আরও ৯৩ রান। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের দারুণ প্রমাণ দেন সেঞ্চুরি করে। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসে ৮টি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। তবে বড় শট খেলতে গিয়ে লংঅফে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে।
তানজিদের বিদায়ের পরও বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন অধিনায়ক শান্ত। তাঁর সামনেও ছিল সেঞ্চুরির হাতছানি। কিন্তু ৮৪ রানে হ্যাজেলউডের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১২৬ বলের ইনিংসে শান্ত মেরেছেন ৭টি চার ও একটি ছক্কা।
শান্ত আউট হওয়ার পরই হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। মাত্র ১১ রানের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারিয়ে ৬ উইকেটে ৩০৮ রানে পরিণত হয় দল। মিচেল স্টার্কের বলে শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ দেন লিটন দাস। পরের ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে একইভাবে আউট হন মুশফিকুর রহিম। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।
সেখান থেকেই ইনিংসের হাল ধরেন মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। দুজন মিলে ২৪.৩ ওভার ব্যাট করে অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটি গড়েছেন। মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত আছেন। অন্য প্রান্তে হাসান মাহমুদ ৭৬ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ১৩ রানে।
তাদের এই প্রতিরোধে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনে এই জুটি যতটা সময় উইকেটে থাকতে পারবে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের চাপ ততই বাড়বে।