দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট এখন আর বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়, এটা সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে থামিয়ে দিচ্ছে। জ্বালানি ঘাটতি আর উৎপাদন কমে যাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই লোডশেডিং যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
নরসিংদীর পলাশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে অনেকেই ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকল না?
গোপালগঞ্জে পাসপোর্ট অফিসে একই চিত্র। দীর্ঘ লোডশেডিং আর বিকল জেনারেটরের কারণে সেবা কার্যক্রম প্রায় অচল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাজ সারতে পারছেন না মানুষ।
রাজশাহীর তানোরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একবার গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফেরে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, সেচের অভাবে বোরো ধান ও আলু চাষে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নওগাঁর রাণীনগর, খুলনার কয়রা, সবখানেই একই অবস্থা। কোথাও কোথাও দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ছোট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান আর ওয়ার্কশপ চালানোই দায় হয়ে পড়েছে।
সিলেটে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি হাসপাতালেও ব্যাঘাত ঘটছে।
চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকটে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। ২৫০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানা গেছে। দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় নগরজীবন স্থবির, আর রাতে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে। বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও ঠিকমতো কাজ করছে না।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ মোমবাতি বিতরণ করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। তার অভিযোগ, সংকট বাস্তব হলেও সেটি সঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না, আর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।
দেশের বিভিন্ন জেলা, ফরিদপুর, সুনামগঞ্জ, বরিশালসহ অনেক জায়গায় দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ মিলছে। এতে শিক্ষা, কৃষি, সেচ ও ক্ষুদ্র শিল্প, সবখানেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের সংকট, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গত শুক্রবার দেশে সর্বোচ্চ ১,২৩৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে।