জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’-এর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের লক্ষে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তবে সরকারের এই প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক সাড়া না দিয়ে বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের মিত্ররা জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ ‘সংস্কার’ নিশ্চিত করতে তাদের এই কমিটিতে যোগদানের বিষয়ে ভেবে দেখার জন্য সময়ের প্রয়োজন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বিগত বছরের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি জোরালো হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে জানান, তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আগেই এই বিশেষ কমিটি গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলেন। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কমিটির মাধ্যমে সংবিধানের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করা।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা ১২ সদস্যের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করেছি। যেখানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের রাখা হয়েছে। আমরা চাই এই প্রক্রিয়াটি যেন প্রশ্নাতীত হয়।”
সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের হিসাব টেনে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সংসদে বিরোধী শিবিরের হাতে প্রায় ২৬ শতাংশ আসন রয়েছে। সেই আনুপাতিক হারে তিনি ১২ সদস্যের কমিটিতে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র থেকে পাঁচজনের একটি কাঠামো প্রস্তাব করেন।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “বিরোধী দল যদি দ্রুত তাদের মনোনীত পাঁচটি নাম সরবরাহ করে, তবে আমরা আগামীকাল বৃহস্পতিবারই এই বিশেষ কমিটি গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করতে পারব। জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন আনতে এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া জরুরি।”
তবে সরকারের এই তোড়জোড়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে বিরোধী দল। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কেবল কিছু ধারা ‘সংশোধন’ নয়, বরং সংবিধানের আমূল ‘সংস্কার’ চায়। এই গুরুভার কাঁধে নেওয়ার আগে কমিটির কার্যপরিধি ও ক্ষমতায়ন নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার জন্য তারা সময় চেয়েছেন।
সরকারের প্রস্তাবিত এই বিশেষ কমিটিতে কেবল প্রধান রাজনৈতিক দল নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছোট দলগুলোকেও সম্পৃক্ত করার আভাস পাওয়া গেছে। সরকারের এই কৌশলের পেছনে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল কারিগর ছাত্র-জনতার ভাবাবেগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি প্রচ্ছন্ন চেষ্টা কাজ করছে।