হরমুজ প্রণালির কাছে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ আটকের ঘটনায় মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এমন পদক্ষেপ দুই দেশের সম্ভাব্য আলোচনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রোববার ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি জাহাজ থামানোর চেষ্টা করলে সেটি নির্দেশ না মানায় অভিযানে নামে তারা। সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘ সময় সতর্কবার্তা দেওয়ার পর জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে হামলা চালিয়ে সেটিকে থামানো হয় এবং পরে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। তবে হতাহতের কোনো তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
ইরান এই ঘটনাকে সরাসরি ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, এটি শুধু আক্রমণ নয়, বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির শর্তও ভঙ্গ করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে।
গত সপ্তাহে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ শুরুর পর এটিই প্রথম জাহাজ আটকের ঘটনা। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, নতুন দফা আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ-এর সঙ্গে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স; সঙ্গে থাকতে পারেন স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার, যারা আগের আলোচনাতেও যুক্ত ছিলেন।
তবে ইরানি পক্ষের ভেতরে সংশয় বাড়ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যদিও ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে।
এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালি, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়, সেখানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অর্থ, জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত আরোপ করা হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে যেখানে সামান্য ভুল হিসাবও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা যতই শেষের দিকে যাচ্ছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা, কূটনীতি এগোবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।