ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় যোগ দেবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (২০ এপ্রিল) তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে এবং রাতেই তারা ইসলামাবাদ পৌঁছাবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম-কে দেওয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইতিবাচক অগ্রগতি আনতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আলোচনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকেরও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আমি সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।”
তবে এই আলোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তাও কম নয়। দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আলোচনার কথা রয়েছে। তাই আমি ধরে নিচ্ছি, এই মুহূর্তে কেউ কোনও ধরনের কৌশলী আচরণ করছে না।”
তাঁর এই মন্তব্যে কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, কেউ এটিকে আশাবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সতর্ক অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিনিধিদল গঠন থেকেই বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।
পাকিস্তানকে আলোচনার স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে আসছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ একটি নিরপেক্ষ মঞ্চ হিসেবে কাজ করতে পারে, এমন ধারণা বিশ্লেষকদের একাংশের।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ইঙ্গিতগুলো বলছে, তেহরানও আন্তর্জাতিক চাপ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে সমাধান খুঁজতে উভয় পক্ষেরই প্রয়োজন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। একইসঙ্গে জ্বালানি বাজার, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।