নেপাল ও তিব্বত সীমান্তজুড়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে চলছে ব্যাপক তৎপরতা।
দুর্যোগে সীমান্তবর্তী কয়েকটি জনপদ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বরফশীতল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নিচের দিকে নেমে এসে বসতি ও সড়কপথ তছনছ করে দিয়েছে। বহু ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতু ও বাঁধ।
নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন। নেপালে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের পাশাপাশি তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া অনেক হিন্দু তীর্থযাত্রীরও এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পরই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হলেও পরে বিশ্লেষণে এটিকে হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল প্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩৮৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯১০ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে নেপালে থাকা প্রায় ১০০ চীনা নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বেইজিং।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং বন্দরে দুর্যোগে তিনজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
উদ্ধারকাজে নেপাল ও চীনের বিভিন্ন সংস্থা মাঠে নেমেছে। নেপালের সেনাবাহিনী প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে ধ্বংসস্তূপে মরদেহ ও জীবিত মানুষের সন্ধান করছে। চীনের পক্ষ থেকেও বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী, প্রশিক্ষিত কুকুর ও স্পিডবোট মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে আরও বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাহাড়ি উপত্যকার কিছু এলাকায় বিপুল ধ্বংসাবশেষ জমে পানি আটকে থাকায় নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ এ নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তাও জারি করেছে।