মার্কিন নৌ-অবরোধের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ইরানের দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাঙ্কার। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে বুধবার এ তথ্য সামনে আসে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর সোমবার থেকে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী সব ধরনের জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে এই অবরোধ কার্যকরের বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে রয়েছে স্পষ্ট ভিন্নতা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, অবরোধ শুরুর পর অন্তত ১০টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কেউ অবরোধ ভাঙতে পারেনি।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স জানায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার সফলভাবে অবরোধ অতিক্রম করে দেশটির ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে এগোচ্ছে। যদিও ট্যাঙ্কারটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ‘আরএইচএন’ নামের একটি খালি সুপারট্যাঙ্কার বুধবার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এর চূড়ান্ত গন্তব্য এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগের দিন ‘অ্যালিসিয়া’ নামের আরেকটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সুপারট্যাঙ্কার একই পথে প্রবেশ করে। কেপলারের তথ্য বলছে, জাহাজটি বর্তমানে ইরাকমুখী। উভয় ট্যাঙ্কারের অতীত রেকর্ডে ইরানি তেল পরিবহনের তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে বুধবার ‘রিচ স্টারি’ নামের আরও একটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাঙ্কারকে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার আগে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতেই ওয়াশিংটন এই নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ইরানি তেল ক্রয়কারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবুও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখনও দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। পর্যাপ্ত স্থলভাগের মজুদ থাকায় কয়েক সপ্তাহ উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত মার্চে দেশটি প্রতিদিন গড়ে ১৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। আর এপ্রিলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গড় রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে।