বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়ে নতুন করে একাধিক শর্ত দিয়েছে ইরান। যুদ্ধ বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান। এতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি কেবল এই আলোচনার ওপর নির্ভর করছে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আরাঘচির ভাষ্য, হরমুজ খুলতে হলে আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে জুনের চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও।
এদিকে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর প্রণালী পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি দাবি সামনে এনেছেন। তার দাবির মধ্যে রয়েছে ইরান ও দেশটির মিত্র লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করা। একই সঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার দাবিও রয়েছে।
এর বাইরে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
তবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়টি ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার ফল হিসেবে দেখছে না ইরানের বিপ্লবী গার্ড। তাদের দাবি, প্রণালী খুলতে হলে শেষ পর্যন্ত ইরানের নির্ধারিত শর্তই মেনে নিতে হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তেহরান প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ক্ষেত্রে টোল আদায়ের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা কিছু জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দীর্ঘ সময় অচল থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জুন মাসে হওয়া সমঝোতায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সামরিক কার্যক্রম বন্ধের মতো নতুন শর্ত সামনে আসায় দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।