বাংলাদেশে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে উঠতে শুরু করেছে কাঁচা আম। ভর্তা বা শরবতের পাশাপাশি এখন স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কাঁচা আমের সালাদ। সহজ উপকরণে ঘরেই তৈরি করা যায় এই সতেজ খাবার, যা গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক।
গ্রীষ্ম মানেই কাঁচা আমের মৌসুম। এই সময় দেশের প্রায় সব অঞ্চলের হাটবাজারে সহজলভ্য হয়ে ওঠে টক স্বাদের কাঁচা আম। সাধারণত কাঁচা আম দিয়ে ভর্তা, ডাল বা শরবত তৈরি করা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে কাঁচা আমের সালাদের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সালাদ যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্য উপকারী।
পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা আমে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার, যা গরমের ক্লান্তি দূর করতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। বিশেষ করে তীব্র গরমে যখন শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে, তখন কাঁচা আমের সালাদ শরীরকে সতেজ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ঘরে বসেই খুব সহজে তৈরি করা যায় এই সালাদ। প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো—
কাঁচা আম, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, লবণ, চিনি, লেবুর রস এবং সামান্য ভাজা জিরা গুঁড়া।
প্রথমে কাঁচা আম ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে পাতলা করে কুচি বা জুলিয়ান কাট করে নিতে হবে। এরপর একটি বড় বাটিতে কাটা আমের সঙ্গে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা মিশিয়ে নিতে হবে। স্বাদ অনুযায়ী লবণ ও সামান্য চিনি যোগ করে দিন। শেষে লেবুর রস ও ভাজা জিরা গুঁড়া ছিটিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু কাঁচা আমের সালাদ।
অনেকে স্বাদের ভিন্নতা আনতে এতে শসা, গাজর বা টমেটোও যোগ করে থাকেন। আবার কেউ কেউ সামান্য সরিষার তেল মিশিয়ে দেন, যা সালাদে আলাদা ঘ্রাণ ও স্বাদ যোগ করে।
কাঁচা আমের সালাদ শুধু স্বাদের জন্য নয়, এর রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও। গরমে অতিরিক্ত ঘাম ঝরার কারণে শরীর থেকে লবণ ও পানির ঘাটতি দেখা দেয়। এই সালাদ সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক। এছাড়া এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি দূর করে।