ফুটবল বিশ্বকাপের আর বেশি দেরি নেই। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে শুরু হয়েছে জার্সি ও ফুটবলসামগ্রীর জমজমাট বেচাকেনা। গুলিস্তান, মতিঝিল, নিউ মার্কেট, লক্ষ্মী বাজার, সদরঘাট ও বঙ্গবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সবচেয়ে বেশি চাহিদা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে পরিবার-পরিজন নিয়ে জার্সি কিনতে আসছেন অনেকে। গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটে সন্তানদের নিয়ে জার্সি কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আহসানুল হক বলেন, ছেলের জন্য আর্জেন্টিনা আর মেয়ের জন্য ব্রাজিলের জার্সি কিনেছি। পরে নিজের ও স্ত্রীর জন্যও কিনবো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে বিক্রি হওয়া জার্সির প্রায় ৯০ শতাংশই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের। এছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার জার্সিরও চাহিদা রয়েছে।
গুলিস্তানের মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেটের এক বিক্রয়কর্মী জানান, বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রিও তত বাড়ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আরও বেশি ক্রেতা আসবে বলে আশা করছেন তারা।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি জার্সির বাজার এখন গুলিস্তান এলাকা। সেখানে দেশীয়ভাবে তৈরি জার্সির পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আমদানি করা জার্সিও বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় জার্সির পাইকারি দাম ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আমদানি করা জার্সি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম আরও কিছুটা বেশি।
এছাড়া প্রিয় খেলোয়াড় কিংবা নিজের নাম জার্সিতে প্রিন্ট করাতেও বাড়তি খরচ করছেন ভক্তরা। দোকানভেদে নাম লেখাতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
গুলিস্তান সমবায় মার্কেট ও বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্বকাপ উপলক্ষে শুধু এই দুই মার্কেট থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ থেকে ২২ কোটি টাকার ফুটবলসামগ্রী বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
জার্সির পাশাপাশি জমে উঠেছে পতাকার ব্যবসাও। গুলিস্তান ও সদরঘাট এলাকার দর্জিদের দোকানগুলোতে এখন বিভিন্ন দেশের পতাকা তৈরির ব্যস্ততা চলছে। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ছোট-বড় নানা আকারের পতাকা বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা।