দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন ধান, চাল ও গম সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই সংগ্রহ কার্যক্রম।
খাদ্য মজুত স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে দামের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিবছরই বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। এবারের পরিকল্পনায় লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বড় রাখা হয়েছে, যা সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সংগ্রহের পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধানের ক্রয়মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের মৌসুমের মতোই বহাল রয়েছে। সিদ্ধ চালের দাম প্রতি কেজি ৪৯ টাকা এবং আতপ চালের ক্ষেত্রে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারদর ও উৎপাদন খরচ বিবেচনায় রেখে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার দিক থেকে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মৌসুমে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টন। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দেশে গম উৎপাদন কম এবং কৃষকদের আগ্রহ সীমিত হওয়ায় এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল সংগ্রহ করা হলে তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন, যা কৃষি উৎপাদনে উৎসাহ জোগাবে। একই সঙ্গে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হলেও তা মোকাবিলা করা সহজ হবে।
অন্যদিকে, সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা সরাসরি সুবিধা পাননি—এমন অভিযোগ ছিল। এ বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংগ্রহ পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যের দামের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব মজুত বাড়ানো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।