জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ প্রার্থীর মধ্যে ৪৯ জনের নাম চূড়ান্ত করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন খান। তবে আইনি জটিলতায় একজনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ঝুলে গেছে একটি আসনের ভাগ্য।
সংসদীয় গণতন্ত্রে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রক্রিয়ায় ৫০টি আসনের বিপরীতে ৫০ জন প্রার্থীই জমা পড়েছিল। ফলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন না পড়ায় সকলেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে হোঁচট খেতে হয়েছে একজন প্রার্থীকে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের অন্তত তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু বাতিল হওয়া প্রার্থীর ক্ষেত্রে সেই নির্ধারিত সময়সীমা পূর্ণ হয়নি। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তি অবসরে যাওয়ার সাথে সাথেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তিন বছরের একটি ‘কুলিং পিরিয়ড’ বা বিরতি বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট ওই প্রার্থী আমলাতান্ত্রিক পদ থেকে অবসর নিলেও তিন বছরের সেই আইনি সীমা অতিক্রম করার আগেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা বাতিলের পর আপিল করার সুযোগ থাকলেও তা কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি খুঁজে পায়নি।
এর ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য গেজেটে আপাতত ৪৯ জন নারী সদস্যের নাম উঠছে। তারা শপথ গ্রহণের পর একাদশ জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার গেজেট প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার সুবিধাজনক সময়ে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তবে বাকি থাকা একটি শূন্য আসনের বিষয়ে ইসি পরে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।
বাংলাদেশের আইনসভায় নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত এই আসনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক হারের ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়। মূলত নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। এবারের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সংসদের ৩৫০ জন সদস্যের কোটা প্রায় পূর্ণ হতে চলেছে।