বুধবার সকাল ১১টার দিকে কাওরানবাজার থেকে বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড পর্যন্ত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের খবর আগে থেকেই পেয়ে বেশিরভাগ দোকানি তাদের অস্থায়ী দোকান সরিয়ে নেন। তবে যেসব দোকান রয়ে গিয়েছিল, সেগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, গত ১০ মার্চ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি এবং পরিবহন শ্রমিক কমিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এর আগে ৮ এপ্রিল সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। সে সময় সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে সড়ক বা ফুটপাত দখল না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
এছাড়া রাজধানীর মগবাজার, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, আব্দুল গনি রোড, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন এলাকা, বাংলামোটর এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন সড়কেও একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ ফুটপাত দখল। ফুটপাত দখল হয়ে গেলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নামেন, ফলে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। এখন উচ্ছেদ করলে কোথায় যাব? প্রতিবারই পুনর্বাসনের কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা হয় না।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, উচ্ছেদের ফলে সড়কের জায়গা ফিরে আসা ইতিবাচক। তবে শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে সমস্যা আবার ফিরে আসবে।
তিনি বলেন, হকারদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেইস তৈরি করে প্রকৃত প্রান্তিক ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের আলাদা করতে হবে। প্রান্তিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, সহজ ঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জরুরি।
পাশাপাশি নির্দিষ্ট হকার জোন, নাইট মার্কেট বা হলিডে মার্কেট চালু করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রিতভাবে ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।