মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে জ্বালানি তেল আমদানি। ফলে তীব্র ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকটে পড়েছে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। পর্যাপ্ত কাঁচামাল না থাকায় দেশের একমাত্র এই রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে নতুন করে কোনো অপরিশোধিত তেলের চালান আসেনি। দীর্ঘ সময় নতুন আমদানি না হওয়ায় মজুদ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। ফলে গত সোমবার বিকেলের পর থেকে শোধন কার্যক্রম এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়ে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; বরং কারিগরি ভাষায় ‘ডেড স্টক’ বা তলানিতে থাকা মজুদ ব্যবহার করে কোনোমতে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যুদ্ধের কারণে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, শোধনাগারে উৎপাদন কমলেও দেশে জ্বালানি তেলের সামগ্রিক কোনো সংকট নেই। কারণ পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন তেল আসার কথা থাকলেও জাহাজটি পৌঁছাতে পারেনি। বিকল্প ঋণচুক্তির আওতায় আগামী মাসে নতুন চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।