ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি খনিজ উপাদান। এটি হাড় ও দাঁতের গঠন, স্নায়ুর কার্যক্রম এবং রক্ত জমাট বাঁধায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে, অর্থাৎ হাইপার ক্যালসেমিয়া হলে, শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্যালসিয়ামকে বলা হয় শরীরের “বিল্ডিং ব্লক”। হাড় ও দাঁতের দৃঢ়তা বজায় রাখতে এটি অপরিহার্য। এছাড়া স্নায়ুর সংকেত প্রেরণ, পেশীর সংকোচন এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমেও ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসা পরিভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপার ক্যালসেমিয়া। সাধারণত রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ৮.৫ থেকে ১০.৫ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার স্বাভাবিক ধরা হয়। এর বেশি হলে তা বিপদের ইঙ্গিত দেয়।
ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
হাইপার ক্যালসেমিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়। যেমন—
চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘদিন হাইপার ক্যালসেমিয়া অবহেলা করলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, হৃদযন্ত্রে অনিয়ম দেখা দিতে পারে এবং হাড় দুর্বল হয়ে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
হাইপার ক্যালসেমিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর। সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। প্রয়োজনে ওষুধ, স্যালাইন বা বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করাও জরুরি।
ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও এর অতিরিক্ততা বিপজ্জনক। হাইপার ক্যালসেমিয়া শুধু সাময়িক অস্বস্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ক্যালসিয়াম গ্রহণে সচেতনতা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।