কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। হত্যার পরিকল্পনায় মো. সিয়ামের সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, অভিযুক্তদের ভূমিকা ও পরিকল্পনার বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। যেকোনো সময় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।
পুলিশের তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি সাইফুল ইসলাম তুহিনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। ফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ, কামরুল ও সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চারজনের মধ্যে তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে সিয়াম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সন্তান হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব তথ্য ও ব্যক্তির সম্পৃক্ততা যথাযথভাবে তুলে ধরে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।