পাকিস্তানের বৃহত্তম বন্দরনগরী করাচি এখন এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি। শহরটিতে প্রতিদিন অন্তত একশ’ মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ঘটছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এ অবস্থায় পাকিস্তান কার্ডিয়াক সোসাইটি (পিসিএস) করাচি শাখা ২০২৬ সালের জন্য নতুন প্রতিরোধভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
করাচির জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নগরায়ণ ও চাপযুক্ত জীবনযাপন। ধূমপান, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানসিক চাপকে বিশেষজ্ঞরা প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর ফলে হৃদরোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন শতাধিক হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা কোনো শহরের জন্যই বড় সতর্ক সংকেত। তারা বলছেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রচার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
পাকিস্তান কার্ডিয়াক সোসাইটি (পিসিএস) করাচি শাখা জানিয়েছে, তারা একটি নতুন ক্লিনিক্যাল প্ল্যাটফর্ম চালু করছে, যেখানে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
করাচির এই সংকট শুধু একটি শহরের সমস্যা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার নগরায়ণ ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের প্রতিফলন। চিকিৎসকরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হৃদরোগ আগামী দশকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে।