আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলে শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানতে পারে। একই সঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে উপকূলীয় এলাকায় বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গভর্নর নিউজম জানিয়েছেন, দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণকে সহায়তা এবং উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের সুযোগও এতে বাড়বে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা মোকাবিলায় বালুর বস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পাম্পসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আগেভাগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে উদ্ধার, অনুসন্ধান, প্রকৌশল ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ডকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এল নিনো হলো ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াচক্র। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও ঝড়ের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
এবারের এল নিনো বিশেষভাবে শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের এল নিনো রেকর্ডে অন্যতম শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এর প্রভাব সর্বোচ্চ হতে পারে।
ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দফা ঝড় আঘাত হেনেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে। উপকূলীয় ভাঙনের কারণে সান্তা মনিকায় একটি সংগীত উৎসবও বাতিল করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে সক্ষম হওয়ায় এল নিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃষ্টিপাত কিছু এলাকায় আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।