রান্নাঘরে ডিম সেদ্ধ করার পর যে পানি আমরা প্রায়ই অবহেলায় ফেলে দিই, সেটিই আসলে নানা ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমের খোসা ও ভেতরের খনিজ উপাদান সেদ্ধর সময় পানিতে মিশে গিয়ে এটিকে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ করে তোলে। ফলে বাগান পরিচর্যা থেকে শুরু করে চুল, ত্বক এমনকি পোষা প্রাণীর যত্নেও এই সাধারণ পানি ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে।
ডিমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ থাকে। সেদ্ধ করার সময় এর কিছু অংশ পানিতে মিশে যায়। ফলে এই পানি হয়ে ওঠে এক ধরনের প্রাকৃতিক "মিনারেল ওয়াটার"।
বাংলাদেশের অনেক গৃহস্থালি বাগানে মাটির উর্বরতা কমে যায় নিয়মিত চাষাবাদের কারণে। সেখানে ডিম সেদ্ধর পানি প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঠান্ডা হওয়ার পর এই পানি গাছের গোড়ায় ঢেলে দিলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
ডিম সেদ্ধর পানি শুধু বাগানের জন্য নয়, সৌন্দর্যচর্চাতেও কার্যকর।
তবে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই পানি ঠান্ডা করে নিতে হবে।
পোষা প্রাণীর খাবারে সামান্য পরিমাণে ডিম সেদ্ধর পানি মিশিয়ে দিলে তাদের হাড় ও দাঁত মজবুত হয়। বিশেষ করে বিড়াল ও কুকুরের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন পশু চিকিৎসকরা।
ডিম সেদ্ধ করার পর পানি ফেলে দেওয়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ এই সাধারণ পানি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা হতে পারে এক বহুমুখী প্রাকৃতিক সম্পদ। বাগান পরিচর্যা, সৌন্দর্যচর্চা কিংবা পোষা প্রাণীর যত্ন, সব ক্ষেত্রেই এর কার্যকারিতা প্রমাণিত।