দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং গ্যাসের ঘাটতি কমাতে দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন কূপ খনন, পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভার এবং স্থল ও সমুদ্রভাগে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোট ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে আরও কয়েকটি কূপে খনন ও সংস্কারকাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের মাটির নিচে নতুন গ্যাসের মজুত শনাক্ত করতে বড় পরিসরে সিসমিক জরিপ চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর আওতায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্যাস অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির জন্য নতুন রিগ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ এই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ দৈনিক আরও প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় পায়রা, মোংলা বা আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হলে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলা সহজ হবে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।